কাজী ওয়াজেদ আলীর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া: বেশ কিছুদিন আগের কথা। তখন আমি সাব-ইন্সপেক্টর। বনশ্রী এলাকার একটি ডিশ অফিসে স্পর্শকাতর এবং নৃশংস একটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের আসামি ধরার জন্য দায়িত্ব পড়ে আমার উপর। সাদা পোশাকে ডিউটি করা অবস্থায় একদিন সংবাদ পেলাম পূর্ব রামপুরার একটি ভিডিও গেমসের দোকানে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামি অবস্থান করছে।
তিনজন ফোর্সকে ব্রিফিং দিয়ে রওনা হলাম। দূর থেকে রেকি করে অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর খুব দ্রুত একশনে গেলাম। ভিডিও গেমসের দোকানে ঢুকে ঘুটঘুটে অন্ধকার লক্ষ করলাম। অনগার্ড অবস্থায় তল্লাশি করতে যাওয়ার প্রাক্কালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের মধ্যে একজন আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালাতে লাগলো। আশপাশে অনেক বাচ্চারা খেলাধুলা করছে দেখে পাল্টা গুলি ছুড়তে আমাদের সমস্যা হচ্ছিল। মুহূর্তেই আমার এক সহকর্মী কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়লো!
আমাদের সহকর্মী গুলিবিদ্ধ হাওয়ায় সকল পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে গেলেও চূড়ান্তভাবে মনোবল হারাইনি কেউই। ফলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জাপটে ধরতে সক্ষম হলাম। ব্যাপক ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আমাদের কাছে পরাভুত হল মূল হত্যাকারী।
দ্রুত হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে আহত আমার সহকর্মীকে নিয়ে রওনা দিয়ে পুলিশ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেলে গেলাম। সৌভাগ্যক্রমে আমার সহকর্মীটি বেঁচে গেলেও আজও তার কোমর হতে গুলিটি বের করা যায়নি। বেঁচে আছেন তিনি।
আহত হত্যাকারী কে নিয়ে গেলাম অফিসে। কিছুক্ষণ পর মামলার বাদী পক্ষ অফিসে হাজির হল। সহকর্মীর গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মানসিকভাবে প্রচন্ড কষ্টের মধ্যে থাকলেও মূল হত্যাকারী ধরা পড়ায় বাদী পক্ষের মুখে হাসি দেখে সকল দুঃখ ভুলে গেলাম। তখন মনে হলো আমি বোধহয় আমার দায়িত্বটা পালন করেছি।
নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান আমরা অনেকেই সব সময় করে থাকি। শত কষ্টের মাঝেও যখন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের লোকজনের মুখে হাসি দেখি তখন খুব গর্ব অনুভব হয়। মনে হয় , এজন্যই তো আমি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গর্বিত সদস্য। ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ আমার গর্বের জায়গা। আমার পোশাক আমার অহংকার। লেখক: কাজী ওয়াজেদ আলী, পুলিশ পরিদর্শক,ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ