গত কিছুদিন পূর্বে সুশ্রী এক বাচ্চার সাথে এক মহিলার একটি স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। উক্ত পোস্টের পোস্টদাতা সন্দেহ প্রকাশ করেন এই বলে যে, বাচ্চাটি ভদ্রমহিলার নাও হতে পারে। হয়তো ভিক্ষাবৃত্তি বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই বাচ্চাটিকে আনা হয়েছে মর্মে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন। পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি’র সম্মানিত সভানেত্রী জনাব জীশান মির্জার তা নজরে আসলে তিনি তৎক্ষনাৎ গুলশান বিভাগের ডিসি মহোদয় জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান পিপিএম (বার)কে উক্ত পোস্টের বিষয়ে অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেন।
সম্মানিত পুনাক সভানেত্রীর পক্ষ থেকে অবগত হওয়ার পরপরই ডিসি গুলশান মহোদয় অফিসার ইনচার্জ বনানীকে ওই বাচ্চাসহ মহিলাকে খুঁজে বের করার জোর নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে ওসি বনানী কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে ওই ছোট্ট বাচ্চাসহ তার পরিবারকে খুঁজে বের করেন এবং যাচাই করে জানতে পারেন এটি মোঃ আব্দুল জব্বার ও স্ত্রী বানেছা বেগম দম্পতির সন্তান এবং তার ডাক নাম তুফান। উল্লেখ্য আব্দুল জব্বার ০৩ টি বিয়ে করেছেন। তুফান তার তৃতীয় ঘরের সন্তান।
আজ ০৭/০২/২০২২ বেলা ৩ টায় উপ পুলিশ কমিশনার, গুলশান বিভাগের কার্যালয়ে তুফান ও তার ভাই, বোনেরা মা, বাবাসহ ডিসি গুলশান মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে তুফানের বাবা, মা জানায়, করোনাকালে তার ও তার স্ত্রীর কাজ চলে যাওয়ায় সন্তানদের লেখাপড়া সংক্রান্ত খরচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।
এসময় ডিসি গুলশান মহোদয় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন এবং একইসাথে আপাতত সন্তানদের লেখাপড়া ও আনুষঙ্গিক খরচাদি চালিয়ে নেবার আশ্বাসও প্রদান করেন। এসময় গুলশান বিভাগের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।