নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির আধিপত্য দখলবাজির নানাবিধ ঘটনায় প্রতিনিয়ত বস্তির মানুষ দিশেহারা হচ্ছে।শোষণকারীরাও নিজেদের কাংখিত আখাংকা পূরণে মেতে উঠছে দখলদারিত্ব নিয়ন্ত্রণের মহোৎসবে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সিন্ডিকেট ধাবিত হচ্ছে বস্তিকে কেন্দ্র করে নানামুখী তৎপরতায়। অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে চলছে চিহ্নিত অপকর্মকারী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পদ বহনের অপতৎপরতা।তাদের প্রচার প্রচারণায় মনে হচ্ছে রাজনীতির পদ পেলেই যেন সকল অপকর্ম নিরাপদে চালানো যাবে ।তাই ইউনিট কমিটির পদ নিয়েও চলছে হরেক রকমের দৌড়ঝাঁপ। উদ্দেশ্যে লক্ষ্য একটাই পদ নিতে হবে বস্তিবাসীকে শোষণ করে স্বল্প সময় অল্প পরিশ্রমে অঢেল অর্থ উপার্জন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামে ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করা ত্যাগী কর্মীদের পাশাপাশি অসংখ্য মামলার চিহ্নিত আসামিরাও পদ প্রত্যাশায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। মরিয়া হয়ে উঠেছে যে কোন মূল্যে পদ কেড়ে নেওয়ার নৈরাজ্যে। গত কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এর ১৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত কড়াইলের কয়েকটি ইউনিট কমিটির ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন।পদ প্রত্যাশীদের ব্যানার ফেস্টুনে সয়লাব হয়েছে স্যাটেলাইট এলাকা।চোখে পড়া অধিকাংশদের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, প্রতারণা,মাদক মামলা নারী নির্যাতনসহ অন্তহীন অভিযোগ। সূত্র বলছে কড়াইল স্যাটেলাইট বস্তির ৩ নং ইউনিটের পদ প্রত্যাশী ফুল মিয়া,জামাল হোসেন এদের নৈরাজ্য মূলক কর্মকান্ড ইতিমধ্যে বস্তির মানুষের স্বাধীন সত্তাকে ভস্মিভূত করেছে । স্যাটেলাইট এলাকায় নানামুখী অপকর্ম করার আকাংকায় তাদের স্বশাসিত নৈরাজ্য গড়ে তুলতে দলের পদ প্রত্যাশী হয়েছে এরা।একজন আদর্শবান রাজনৈতিক পদ পদবী বহনকারী ব্যক্তি সমাজ কাঠামোর অন্যতম প্রস্তাবক হিসেবে কাজ করে।এদের সামাজিক প্রস্তাবনা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের সভ্য সত্তার জন্য ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্র এই সামাজিক প্রবণতার নীতিকে স্বাভাবিকভাবেই নিজের জন্য চ্যালেঞ্জ মনে করে।
সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম রাজনৈতিক পদ প্রত্যাশা করা ফুল মিয়া জামাল হোসেনের গত কয়েক বছরের সংঘটিত ঘটনাগুলোকে আমলে নিলে সহজেই বোঝা যাবে কড়াইলে তাদের নৈরাজ্য কি আকারে বিরাজ করছে।
ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ,প্রতারণা সহ নানামাত্রিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত এরা। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ যেন কাজ করছে না। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে মাদকের বড় চালান সহ আটক হয়েছে পুলিশের হাতে।
এই যখন তাদের কর্মকান্ডের অবস্থা, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে তারা এতো অপকর্ম করে কি ভাবে দলীয় পদ প্রত্যাশা করে বড় বড় নেতাদের ছবি সম্বলিত ফেস্টুনে সয়লাব করেছে এলাকা।তারা কি এসব নেতাদের অনুমতি নিয়ে তাদের নির্দেশ মতে ছবি ব্যবহার করেছে,নাকি তারা অজ্ঞাবশত নিজেদের ইচ্ছামত ব্যবহার করেছে।তবে কী তাদের অপকর্মে কারো আশির্বাদ রয়েছে । তাদের অপরাধের দিকে তাকাতে গেলে একটু শঙ্কিতই হতে হয়। নিয়মিতই অসংখ্য সব অঘটনের খবর পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তারা। কোনো আইন কিংবা সামাজিক রীতিনীতির ধার ধারছে না তারা। তাদের মধ্যে নতুন নতুন অপরাধ প্রবণতার বীজ বপন হচ্ছে।
এলাকা সূত্র বলছে তাদের কর্মকাণ্ড যতটা আইন না মানা, তার চেয়ে বেশি আইনকে অগ্রাহ্য করা। তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণহীন মনে করছে।আর নিয়ন্ত্রণহীন মনে করাটা ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়া ছাড়া আর কিছুই নয়। শুধু চলতি বছরেই সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ফুল মিয়ার নামে বিভিন্ন অপরাধে কোর্টে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে যাহার পিটিশন মামলা নং ২২১৮/২০২১ইং, পিটিশন মামলা নং ২২০৬/২০২১ ইং , কোতয়ালী থানার মাদক মামলা নং ৮১/২৭-৩-১৮ ইং। এছাড়াও বনানী থানায় একাধিক জিডি সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সভাপতি পদ প্রত্যাশী জামাল হোসেন মাষ্টার ওরফে ডালিম এর বিরুদ্ধে গুলশান থানার চাঁদাবাজির মামলা নং ২৭ ,পিটিশন মামলা নং ৪৮ /২০১২ ইং ছাড়াও, বনানী,মতিঝিল থানায় রয়েছে একাধিক জিডি ও অভিযোগ। একটি বিশেষ সূত্র বলছে জামাল হোসেন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জিডি মামলা থাকায় কৌশল করে ফেস্টুনে এ আর জামাল হাসান মাস্টার নাম ব্যবহার করেছে। আমরা জানি তার আসল নাম জামাল হোসেন ওরফে ডালিম। তার পরেও তারাই ইউনিট কমিটির পদ প্রত্যাশী হয়েছে।এদের উদ্দেশ্যে কি শুধু রাজনীতির আদর্শ ধারণ করা না কি অপকর্মের রক্ষা কবজ হিসেবে পদ পদবী বহন করে বস্তিবাসীদের শোষণ করা।তবে ত্যাগী পদ প্রত্যাশীরা মনে করছে দলের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে ইউনিট কমিটির বন্টন দায়িত্বে থাকা নীতিনির্ধারকরা অবশ্যই এমন সমাজ বিরোধী স্বার্থনেস্বীদের পদ প্রত্যাশীর বিষয়ে রাজনৈতিক আদর্শের নীতি নৈতিকতা বজায় রাখবেন।