লেখক : কাজী ওয়াজেদ আলী, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পল্লবী থানা,ডিএমপি,ঢাকা ! ব্যক্তিজীবন, শিক্ষাজীবন এমনকি কর্মজীবন কোনোটাতেই সাকসেস না হতে পারায় সোহাগের মনে অনেক কষ্ট! মনের কষ্টে বলছিল সে, স্যার আমার জীবন এতটা আনসাকসেসে ভরা কেনো?
ছাত্রজীবনে সোহাগ এসএসসির টেষ্টে ফেল করায় পরীক্ষার অংশ নিতে না পেরে জীবনের প্রথম আনসাকসেস হয় সে। তবে এসএসসির গন্ডি না পেরোলেও কথাবার্তায় যথেষ্ট স্মার্ট সোহাগ।
পড়াশোনায় আনসাকসেস হয়ে সে প্রেমের দিকে নজর দেয়। বারবার বিভিন্ন মেয়ের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে অর্থাৎ আনসাকসেস হয়ে ভেংগে পড়লেও দমে যায়নি সোহাগ।
আনসাকসেসের পাল্লা বেশি ভারি হওয়ার আগেই একজনকে বিয়ে করে ফেলে সোহাগ। কিন্তু সেখানেও আনসাকসেস হয়ে যায় সে! নিজের অনৈতিক কর্মকান্ডে ভেংগে যায় সোহাগের সংসার!
ভাগ্যের চাকা ঘুরোতেই হবে সোহাগকে। এবার সে যোগ দেয় মাদক ব্যবসায়। সোহাগের অনুযোগ, সাকসেস তো দুরের কথা কোনরূপ শান্তি পায়নি সেখানেও।
সকালে পুলিশের দৌড়ানি তো বিকালে মাদকসহ আ্যরেস্ট। হাজত খেটে বের হয়ে কোনরকম ব্যবসা খাড়া হওয়ার আগেই আবার আ্যরেস্ট। সর্বশেষ ৭৬ দিন হাজতবাস হল সোহাগের।
সোহাগ দমবার পাত্র নয়। কারন সে জানে “ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস”। জেলখানায় সোহাগের সাথে পরিচয় হয় কিছু কুখ্যাত চোরের।
সবাই আগেপিছে জেল থেকে বের হয়ে এসে সোহাগরা কয়েকজন মিলে গঠন করে “চুরি টিম”। চোর সম্প্রদায়সহ দিনের বেলা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে সুযোগ বুঝে তালা ভেংগে চুরি করবে বলে নিয়ত করে সোহাগ।
কথাবার্তায় স্মার্ট সোহাগের আক্ষেপ, এত রিস্ক নিয়ে কাজ করে প্রথমদিন মাত্র ২৫০০/ টাকা ভাগে পায় সে। অর্থাৎ এখানেও আনসাকসেস সে!
তার আনসাকসেসের পর্বটা এখানে থেমে থাকলেও চলতো। কিন্তু সোহাগের এবারের আনসাকসেস ভাগ্যটা বড়ই নির্মম!
২য়বারের মত চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে সোহাগ! তার আনসাকসেসের কারনে এলাকাবাসী ধরে ফেলে ফ্রি ফ্রি কিছু আদর যত্ন করে পুলিশে তুলে দেয় সোহাগকে।
এত এত আনসাকসেসের পরও সোহাগের শেষ সাকসেসের চেষ্টা, “স্যার একটা ছোট মামলা দিয়েন”! অর্থাৎ এত আনসাকসেসের পরও সোহাগ আবারো অসৎ লাইনে দাড়িয়ে তার জীবনের সাকসেস দেখতে চায়।
শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সোহাগ সাকসেস নামের বিষয়টাকে ধরতে চাইলেও, সন্দেহ নেই এখানেও আনসাকসেস হবে সোহাগ।
সোহাগের আনসাকসেসের গল্পটি এখানেই শেষ হল।