নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুনই জলমহালে শ্যামাচরণ বর্মণ (৬৫) নামের এক জেলেকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা জলমহালে ঢুকে জেলেদের খলাঘরে অগ্নিসংযোগ, মাছ ধরার কয়েক লাখ টাকার জাল, নগদ টাকা, আসবাবপত্র লোপাট করে। জেলে শ্যামাচরণ বাধা দিতে এলে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। শ্যমাচরণ বর্মণ ধর্মপাশার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের প্রয়াত গঙ্গাধর বর্মণের ছেলে ও সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণের পিতা এবং সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য।
নিহতের ভাগ্নে উপজেলার সুনই গ্রামের বিশ্বজিৎ বর্মণ জানান, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তার ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজ্জামেল হোসেন রোকনের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জলমহাল দখলে নামে। বাধা দিতে গেলে তারা জলমহালে থাকা জেলেদের একটি খলাঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অপর একটি ঘরে থাকা মাছ ধরার কয়েক লাখ টাকার জাল, নগদ টাকা, আসবাবপত্র লোপাট করে। বাধা দিলে তারা জেলে শ্যামাচরণ বর্মণকে জবাই করে। মারধর করে অনেক জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতাকারী পরাজিত প্রার্থী শামীম আহম্মেদ মুরাদ নির্বাচনে ফেল করার পর থেকে মাননীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্বে ভিবিন্ন উস্কানি আর ষড়যন্ত্র করে আসছে কিছুদিন আগে এমপি সাহেব আর উপজেলা চেয়ারম্যানের ছবি দিয়ে ব্যানার করে ঢাকার প্রেসক্লাবে বহিরাগতদের নিয়ে টাকা-পয়সা খরচ করে জলমহলকে ইস্যু করে একটা মিটিং করে শামীম আহাম্মেদ মুরাদ.তারই ধারাবাহিকতায় মুরাদ ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আজকের এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি. পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অন্য একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান লোকমুখে জানতে পেরেছি কিছুদিন পূর্বে শামীম ও তার সহযোগী মিলে ঢাকার বসুন্ধরায় ফ্ল্যাটে নিয়ে একটা মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশে ভাটারা থানায় একটি মামলাও হয়েছে.
রাত সোয়া ১১টা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধর্মপাশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, আমি ও আমার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান এ মুহূর্তে সুনামগঞ্জ অবস্থান করছি। এসব বিষয়ে আমরা কিছু জানিনা।






