নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে জনগণ যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তা হলো পরিবর্তন ও জবাবদিহিতার প্রত্যাশা। এখন দায়িত্ব নতুন সরকারের। বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি বাস্তব কাজের সূচনা দেখতে চায় মানুষ।
প্রথমত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রশাসন থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত অনিয়ম, ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জনআস্থা টিকবে না। দুর্নীতির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রেও সমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাল, নদী ও সম্পত্তি উদ্ধার করতে হবে। জলাবদ্ধতা, পরিবেশ বিপর্যয় এবং নগর বিশৃঙ্খলার পেছনে এই দখলদারিত্ব বড় কারণ। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বাস্তব অগ্রগতি দরকার। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সড়ক, সেতু ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত হলে অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি মানুষের জীবনযাত্রাও সহজ হবে।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহায়তা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা তৈরির কার্যকর নীতি এখন জরুরি। তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে না পারলে উন্নয়ন টেকসই হবে না।
নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়া আরেকটি বড় অঙ্গীকার হওয়া উচিত। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও গণপরিসরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।
সবশেষে, বিচার ব্যবস্থায় সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব নয়, আইনের শাসনই হবে চূড়ান্ত মানদণ্ড—এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই নতুন সরকার সত্যিকার অর্থে জনগণের আস্থা অর্জন করবে।
মানুষ ভোট দিয়েছে আশায়। এখন সেই আশার প্রতিফলন ঘটানোর সময়।
_______________
লেখক ও সাংবাদিক
হাফিজুর রহমান শফিক