1. admin@dailyprohoralo.com : admin : H M ABDUR RAZZAQUE RAZ
  2. saifmasrur@gmail.com : saif masrur : saif masrur
ভোলায় পুলিশ ও সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি,বৃদ্ধকে প্রাণনাশের হুমকি - দৈনিক প্রহর আলো
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

ভোলায় পুলিশ ও সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি,বৃদ্ধকে প্রাণনাশের হুমকি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৮৩৭ Time View

ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার আলীনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবাসী ছেলের কষ্টের টাকায় কেনা জমি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দখলের চেষ্টার করছে ভূমিদস্যু আমির হোসেন ও তার ছেলে পুলিশ সদস্য মো. ইকবাল হোসেন ও সেনা সদস্য মো. জাহিদ হোসেন। আদালতে মামলা করায় ও ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় জমির মালিক মোস্তাফিজকে প্রকাশ্যে দা, লাঠিসোটা নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দিচ্ছে তারা। পুলিশ ও সেনা সদস্যের হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে চরম আতঙ্কে নিরাপত্তাহীতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে কান্নাজড়িত কন্ঠে ভোলা সদরের আলীনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মৌটুপি গ্রামের জমির মালিক বৃদ্ধ মোস্তাফিজুর রহমান এমন অভিযোগ করেন। জীবনের নিরাপত্তা ও জমি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করতে পারেন সে জন্য ভোলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং সহযোগীতা চেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর দরখাস্ত দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আমির হোসেন মাল জানান, দলিল অনুযায়ীই তারা ওই জমি ভোগ করছেন। মোস্তাফিজের কোন জমি দখল করেননি।
এলাকাবাসী জানান, আমির হোসেনের দুই ছেলে পুলিশ ও সেনা সদস্য হওয়ায় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে অসহায় বৃদ্ধ মোস্তাফিজ পন্ডিতকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা পুলিশ ও সেনা সদস্য হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মৌটুপি গ্রামের মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে নুরে আলম মনিরের পাঠানো টাকা দিয়ে রুপিয়া বেগমের কাছ থেকে বাগানের জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন। একই এলাকার মো. আমির হোসেন মাল তার ছেলে পুলিশ সদস্য মো. ইকবাল হোসেন ও সেনা সদস্য মো. জাহিদ হোসেনের নামে একই মালিক রুপিয়া বেগমের কাছ থেকে বিলে (নাল) জমি ক্রয় করে ভোগদখল করেন। বিগত প্রায় তিন-চার বছর ভোগদখলের পর হঠাৎ করে আমির হোসেন মাল তার ছেলে পুলিশ সদস্য মো. ইকবাল হোসেন ও সেনা সদস্য মো. জাহিদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোস্তাফিজের বাগানের জমি দখল করার জন্য পায়তারা করছে। বাগানের সুপারীসহ অন্যান্য ফলফলাদি জোরপূর্বক পেরে নিয়ে যায় আমির হোসেন, ইকবাল ও জাহিদ। জমির মালিক মোস্তাফিজ সুপারী পেরে নিয়ে যাওয়ায় বাঁধা দিতে আসলে আমির হোসেন ও মো. ইকবাল এবং মো. জাহিদ ওই জমি তাদের নামে রেকর্ড হয়েছে বলে বৃদ্ধ মোস্তাফিজকে জমির কাছে যেতে নিষেধ করেন।

এ কথা শুনে মোস্তাফিজ জমির কাগজপত্র উঠিয়ে দেখেন আমির হোসেন ও তার ছেলেরা অবৈধভাবে নামজারি করে মোস্তাফিজুরের ৩৬ শতাংশ জমি তাদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়ে গেছে। পরে মোস্তাফিজুর রহমান তার সৌদি প্রবাসী ছেলে নুরে আলম মনিরকে বিষয়টি জানায়। মনির প্রবাসের ঘাম জড়ানো কষ্টের টাকায় কেনা জমি অবৈধ রেকর্ড (নামজারী) করেছে শুনতে পেয়ে সৌদি আরবে স্ট্রোক করে মারা যায়। মনিরের লাশ এখনো সৌদি আরবে রয়েছে। প্রবাসে ছেলে মনির মারা যাওয়া বৃদ্ধ মোস্তাফিজ মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।
বিষয়টি মোস্তাফিজ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে স্থানীয়ভাবে শালিস মিমাংসার চেষ্টা করা হলে আমির হোসেন ও তার ছেলেরা স্থানীয় শালিস উপেক্ষা করেন। এক পর্যায়ে মোস্তাফিজ জমি ফিরে পেতে ভোলার আদালতে মামলা করেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর-২৩ বিজ্ঞ আদালত ওই জমির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতে মামলা করায় এবং ওই জমির উপর আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় আমির হোসেন ও তার ছেলেরা মোস্তাফিজুরকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। পুলিশ সদস্য ইকবাল আদালত থেকে বাসায় গিয়ে মোস্তাফিজকে রাস্তায় পেয়ে অকর্ত্য ভাষায় গালিগালজ ও হুমকি ধামকি দেয়। মোস্তাফিজ ওই জমির কাছে গেলে তাকে প্রাণনাশেরও হুমকি দেয় ইকবাল ও তার পিতা আমির হোসেন। ইকবাল, জাহিদ ও আমির হোসেন প্রকাশ্যে দা, লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় মহড়া দেয়। এদের হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতির কারণে চরম আতঙ্কের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বৃদ্ধ মোস্তাফিজুর রহমান। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং শান্তিপূর্ণভাবে যাতে জমি ভোগদখল করতে পারেন সে জন্য ভোলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন জমির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান। যার জিডি নং-১৩৫১, তাং-২৩/০৯/২০২৩ইং। এছাড়াও মোস্তাফিজুর এ ব্যাপারে সহযোগীতা চেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর দরখাস্ত দিয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান ভূমিদস্যু আমির হোসেন ও তার ছেলের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশের একটি টীম ঘটনাস্থল পরির্শদন করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, একই মালিকের কাছ থেকে আমির হোসেন জমি কিনেছে বিলে এবং মোস্তাফিজ জমি কিনেছে বাগানে। তারা দুজন যে যেখানে কিনেছে সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছে। হঠাৎ করে আমির হোসেন জোরপূর্বক মোস্তাফিজের বাগানের সুপারীসহ বিভিন্ন ফলফলাদী পেরে নিয়ে যায়। পরে শুনেছি আমির হোসেন অবৈধভাবে রেকর্ড করিয়ে মোস্তাফিজের বাগানের জমি নিয়ে গেছে। এবং ওই রেকর্ডের বলে মোস্তাফিজুরের জমি দখলের পায়তারা করছে। কিন্তু বাগানের জমি মোস্তাফিজ পন্ডিতের। তার ছেলে মনির বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছে সেই টাকা দিয়ে এই জমি কিনেছে। কিন্তু আমির হোসেন ও তার ছেলেরা ক্ষমতা দেখিয়ে অবৈধ রেকর্ড করিয়ে জমি নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে মোস্তাফিজুরের ছেলে মনির সৌদি আরবে স্ট্রোক করে মারা গেছে। মোস্তাফিজ আদালতে মামলা করলে ওই জমির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাকসুদুর রহমান বলেন, একই মালিকের কাছ থেকে মোস্তাফিজ পন্ডিত এবং আমির হোসেন ও তার ছেলেরা জমি ক্রয় করেন। মোস্তাফিজুর রহমান বাগানে ও আমির হোসেন বিলে জমি কিনে দীর্ঘদিন কয়েক বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন। হঠাৎ শুনতে পেয়েছি আমির হোসেন ও তার ছেলে সেনা সদস্য জাহিদ ও পুলিশ সদস্য ইকবাল জোর করে মোস্তাফিজুর রহমানের বাগানের জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং জোরপূর্বক সুপারীসহ গাছগাছালী কেটে নিচ্ছে। বিষয়টি আমাদেরকে জানালে আমরা শালিসে বসার জন্য দুইপক্ষকে কাগজ নিয়ে আসার জন্য বলি। কিন্তু আমাদের শালিসকে উপেক্ষা করে পুলিশ সদস্য ইকবাল বিষয়টি থানায় নিয়ে যায়। এবং থানায় বসাবসি হয়। মোস্তাফিজুর রহমানের সৌদি প্রবাসী ছেলে মনিরের পাঠানো টাকা দিয়ে ওই জমি ক্রয় করা হয়েছে। জমি অবৈধ রেকর্ড করিয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে মনির সৌদি আরবে স্ট্রোক করে মারা গেছে শুনেছি। তার লাশ এখনো সৌদি আরবে রয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আমির হোসেনের বক্তব্যের জন্য তার বাসায় গেলে তারা বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। তিনি বলেন, দলিল অনুযায়ী রেকর্ড হয়েছে, সে অনুযায়ী জমি ভোগ করছি। মোস্তাফিজের কোন জমি দখল করিনি। পুলিশ সদস্য ইকবাল হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত ০১৯১৬৩৬০৪০০ নাম্বারে একাধিক ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সেনা সদস্য জাহিদ হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত ০১৭৪২১১৯৯৩৬ নাম্বারে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, কি কারণে ফোন দিয়েছেন বলেন। তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দেওয়া হয়েছে বললে তিনি ফোনটি কেটে দেন। এরপর তাকে কয়েকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Customized BY WooHostBD