নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও ২৪এর বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা যখন মহাসংস্কারের পথে হাঁটছে ঠিক তখন রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন স্বৈরাচারের আমলের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ একাধিক কর্মকর্তা। যাদের বিরুদ্ধে বিগত স্বৈরাচার সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ থেকে দুর্নীতি ও লুটপাটের সাথে জড়িত রয়েছেন বলে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় এমনকি মালিকানাধীন সকল প্রতিষ্ঠানেও যখন সংস্কারের জয়জয়কার, ঠিক তখন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক স্বৈরাচারের দোসরদের বহাল রাখতে যেন মরিয়া এমনটাই মনে হচ্ছে। দুর্নীতিবাজ একধিক কর্মকর্তা অধিদপ্তরে এখনো বহাল থাকার ঘটনায় হতবাক প্রায় সবাই।
ফ্যাসিস্ট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও আমলাদের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে এসব কর্মকর্তারা ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে বদলি ও পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
নতুন মহাপরিচালকের যোগদানের পর সকলেরই প্রত্যাশা ছিল স্বৈরাচারের দোসরদের সরিয়ে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে সংস্কারের পথকে উন্মুক্ত করবেন তিনি। কিন্তু এসব নিয়ে যেন কোন প্রকার মাথাব্যথা নেই নতুন ডিজির।
মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে স্বৈরাচারের দোসরদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বহাল রাখার ঘটনায় হতবাক সবাই। সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় সংশ্লিষ্ট অনেকের মনেই নানাবিধ প্রশ্নের দানা বেঁধেছে। তারা মনে করেন নতুন মহাপরিচালক দেশের চলমান এই সংস্কারের বিপক্ষের মানুষিকতা সম্পন্ন হওয়ায় সংস্কার প্রক্রিয়ায় আন্তরিক নয় তিনি।
বহাল থাকা এসব কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনিয়ম ও আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয় অসংখ্য সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার কারণে লোক দেখানো তদন্ত কমিটি যেন তাদেরকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বহাল রাখার কৌশল মাত্র।
বিষয়টি নিয়ে বেসরকারী ‘মানবাধিকার সংস্থা রিহাফ’ চেয়ারম্যান এইচ এম আব্দুর রাজ্জাক রাজ এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিগত স্বৈরাচার সরকার ও তাদের অনুসারীদের সঙ্গে যুক্ত থাকা সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা ও বদলি একটি অত্যাবশ্যকীয় ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া।
এর জন্য আলাদা করে কোন প্রকার তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি না। বিগত সরকারের আমলে অধিক সময় ধরে একই পদে বহাল থাকা কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি জনমানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে মারাত্মক ভাবে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে যা পরবর্তীতে ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্থ করারই সামিল।
চলবে…….