জিয়ারুল ইসলাম: চরভদ্রাসনে চাকরির সুবাদে কিছু আজব মানুষের সাথে আমার পরিচয় ঘটছে। গত ৩দিন আগে গিয়েছিলাম বুড়ির চরে। সেখানে ২৭টি পরিবারের পদ্মার পানি ও জঙ্গলের মধ্যে বসবাস। বলা চলে দেশের অন্যান্য সাধারণ মানুষের জীবনের থেকে প্রায় সবটুকুই আলাদা তাদের জীবন-জীবিকা। গতকাল রাতে গিয়েছিলাম এমন আরও দুটি জনপদে। যার নাম – উত্তর ও দক্ষিণ চরকল্যাণপুর চলে। উত্তর চরকল্যাণপুরে ৫০টি পরিবারের বসবাস ও দক্ষিণ চরকল্যাণপুরে ২০০ পরিবারের বসবাস। সবার জীবিকা পদ্মায় মাছ ধরা, পশু পালন ও কৃষিকাজ। মানুষগুলো খুবই সহজ-সরল ও আন্তরিক। তবে তাদের মধ্যে হতাশা আছে। প্রতিবার নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিতে হয় ও জলদস্যুরা দূরদূরান্ত থেকে এসে তাদের অনেক কষ্টে পালা লালায়িত স্বপ্নের গরুছাগল গুলো চুরি করে নিয়ে গিয়ে লালিত স্বপ্নগুলো ধূলোয় মিশিয়ে দেয়। যদিও আশার কথা, এবারের পানি বৃদ্ধির পর থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। তবে তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। মানুষগুলোর সুখ-দুঃখের কথার মধ্যে আমার কথা উঠে এলে বলেন- তারা নাকি গত দশকের মধ্যে ওসি দেখেনি;৩০/৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন- তাদের জীবনে না-কি ওসি হিসেবে আমাকেই প্রথম দেখছেন। আমি তাদের সাথে আন্তরিকতার সাথে কথা বলার সময় কেউ কেউ বলেন যে, ওসি এমন হয় তা জানতাম না তো। তাদের ধারণা ছিল ওসি বলতে অন্য গ্রহের কিছু ভয়ঙ্কর একটা। আমার এসপি স্যারের কথা তুলে ধরে বললাম যে, আপনাদের সম্পদের নিরাপত্তার জন্য স্যার একটা স্পীড বোট দিয়েছেন। আরো কিছু কথার পর অনেকেই আবেগী হয়ে বলেই ফেলেন যে, এসপি স্যারকে তাদের ওখানে একদিন নিয়ে আসতে। তাঁরা এসপি স্যারকে একদিন দেখার ইচ্ছে করে। আমি তাদেরকে বললাম- আমি আপনাদের দাওয়াত স্যারকে পৌঁছে দেবো। যদিও স্যারের পদোন্নতির পর এখানে আর বেশিদিন থাকার সুযোগ সীমিত। চরের মানুষগুলোর সুযোগ বঞ্চিত হবার কারণ আছে। তাদের চরে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। দূরের কোথাও গিয়ে শিক্ষার স্বাদ নিতে হয় তাদের সন্তানদের। যার কারণে শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে চরের মানুষগুলো যুগে যুগে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেখলাম চরের মধ্যে জঙ্গলের মধ্যে একটা প্রাইমারি স্কুল আছে। কিন্তু সেখানে কোনো ছাত্র-ছাত্রী কিংবা শিক্ষকদের আসা-যাওয়া নেই। থাকবে কি করে ঐ জঙ্গল ঠেলে কে আর যায়।
এই চরের মানুষগুলোর সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের মতো তাদের সন্তানদের সকল সুবিধা পৌঁছে দিয়ে দেশগড়ার কাজে লাগানো আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। লেখকঃ জিয়ারুল ইসলাম,অফিসার ইনচার্জ,চরভদ্রাসন থানা,ফরিদপুর জেলা পুলিশ এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া