লেখকঃ কাজী ওয়াজেদ আলী,পুলিশ পরিদর্শক, ডিএমপি,ঢাকা : গতকাল বিকেলে অফিস থেকে বের হতেই প্রচন্ড বৃষ্টি! সাক্ষী রোজার ইফতারির জন্য একটু আগেভাগেই ছাতা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মগবাজার মোড়ে পৌঁছলাম। বেশ বৃষ্টি, কাকভেজা এক রিক্সাচালককে বললাম, খিলগাঁও আনসার হেডকোয়ার্টার যাবে? হ্যাঁ বলায় বললাম, ভাড়া কত? বলল ৬০ টাকা দিয়েন মামা।
ভাড়ার কথা শুনে খুবই আশ্চর্য হলাম। এখান থেকে প্রতিদিন ৭০-৮০ টাকায় যাই। কখনো কখনো ৬০ টাকাতেও গিয়েছি। অথচ আজ বৃষ্টির দিনেও ৬০ টাকা চাইলো। ভাবলাম হয়তো এলাকা চেনে না, তাই পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কি আনসার হেডকোয়ার্টার চেনো? বলল, চিনি মামা।
বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজে ঠিকই আমাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে সে ৬০ টাকাই ভাড়া নিল। অথচ বৃষ্টির কারণে রিকশাচালক সুযোগ নিয়ে বাড়তি ভাড়া চাইতে পারত। আমিও বাড়তি ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু তার আচরনে মনে মনে ভাবলাম, এমন মানুষও আছে ! ভাবলাম এই মানুষটা রিকশাচালক হলেও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাড়তি ভাড়া চায়নি।
অথচ সাম্প্রতিককালে দেখছি বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি বেশি মুনাফা অর্জনের জন্য ভোজ্য তেল সোয়াবিন মজুদ করছে। এমনিতেই হঠাৎ দাম বাড়ার কারণে এই সময়ে অনেক মানুষের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তার ওপর এইসব ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করার জন্য তেল মজুদ করছে। উদ্দেশ্য হল সুযোগ বুঝে বাড়তি দামে তা বিক্রি করবে। ইস্ ! পরিস্থিতির সুযোগে মানুষকে ফাঁদে ফেলে বড়লোক হওয়ার হায়রে চেষ্টা!
বুঝলাম আসলে মানুষের সাথে মানুষের পার্থক্যটা তার স্ট্যাটাসে নয়, পার্থক্যটা আসলে তার মননে। তার রক্তের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার মনুষ্যত্ব। অসুস্থ মানসিকতার মানুষগুলো বৈরী পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে ধনী হওয়ার বাসনায় ঠকানোর লালসায় অন্ধ হয়ে যায়। তখন সেই মানুষগুলো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে নানান অপরাধ কর্ম করে। নিয়ন্ত্রিত জীবন আর তার অস্তিত্বের কথা চিন্তা করলে মানুষ কখনো অমন লোভী হতে পারে না। অন্তত গতকালের সেই রিকশাচালক আমার কাছে সেটাই প্রমাণ করেছে। অশেষ কৃতজ্ঞতা আর শুভকামনা ৩৫ বছরের অজ্ঞাতনামা ঐ রিকশাচালককে।